রামুর বাঁদরামি



দুষ্ট বুদ্ধি মাথায় রামুর কানায় কানায় ভরতি 
পরের মাথায় ভাঙলে কাঁঠাল বেজায় লাগে ফুর্তি।
দস্যিপনায় যখন তখন নয়কে করে ছয়
যন্ত্রণাতে অতিষ্ঠ তায় সবাই করে ভয়
হেলে-দুলে কান্তা মাসী এই তো সেদিন দুপুরে
জল আনতে যাচ্ছিলো বেশ, মিয়া বাড়ির পুকুরে।
পুকুর পাড়ের জারুল গাছে রামু তখন বসিয়া
চুরি করা চাম্পা কলা খাচ্ছিল বেশ কষিয়া।
মাসীর দেখা পেয়ে রামু ফেলল কলার ছিলে
ধড়াম শব্দে গ্রামবাসীদের চমকে গেল পিলে।
কোমর ভেঙে বিলাপ করে দিলো মাসী শাপ
আর জনমে বাঁদর হবি, যা করেছিস পাপ।
এসব শাপে রামুর বল কি যায় আসে আর
বন্ধ করবে বাঁদরামি?আহ!বয়েই গেছে তার।
দু দিন বাদে আসলো রামু কান্তা মাসীর দোরে
বলল মাসী ভুল হয়েছে দাও না গো মাফ করে।
আমার আনা মিঠাই খেয়ে মনটা করো শান্ত
মিঠাই খেলেই মহা বিপদ মাসী কি তা জানতো?
আস্ত মিঠাই মুখে, মাসী করলো শুরু হল্লা 
মিঠাই তো নয় এসব ছিল চুন ও আটার গোল্লা।
আবার যদি আসিস হেথায় জাঁকিয়ে দেবো চড়
আর জনমে বাঁদর হবি দিলাম তোকে বর।

নিধুর টাক


টাক নিয়ে নিধুবাবু আছে বড় দুক্ষে
রোজ বসে পুঁজো করে করো গো মা রক্ষে
এই বেলা চকচকে টাক নিয়ে কষ্ট
প্রহসনে নিধুদা'র সুখ হল নষ্ট।
বাপ মা'র দেয়া নাম নিধুবাবু হারিয়ে
বেলুবাবু নামে পরিচিতি গেছে ছাড়িয়ে।
আজকাল শিশুগুলো শিশু নয় দস্যি
দেখলেই হেঁকে কয় বেলু দাদা নস্যি!


গাছের ছায়ার তলে রেখে নিজ খাটিয়া
নিধুবাবু আনমনে পিঠ দিলো পাতিয়া।
শীতল বাতাস পেয়ে দেহ মন শান্ত
গজব যে বাকি ছিল নিধু কি তা জানতো!
ভুলো মনে বেল তলে পেতেছিল খাটিয়া
আচমকা বেল পড়ে মাথা গেল ফাটিয়া।
প্রকৃতিও টাক নিয়ে করে তাকে ব্যঙ্গ
কেউ কি দেবেনা হায় নিধুদা'র সঙ্গ।

রসের হাঁড়িটি মাথে নিধুদা চলিছে হাটে
কাদায় পিছলে পড়ে চলা হল পণ্ড
রসে টাক মাখা মাখি সে কি এক কাণ্ড!
কোথা হতে ভুলু নেড়ি আসিলো যে ছুটিয়া
রসে মাখা নিধুদা'র টাক দিলো চাটিয়া।


ছাতা দিয়ে টাক ঢেকে নিধুদা চলিছে হেঁটে
বৈদ্যর কাছে যাবে পিলের ব্যথা যে পেটে
আচমকা শুরু হওয়া ঝড়ো হাওয়া বাতাসে
নিধুদা'র ছাতাখানি উড়ে গেলো আকাশে।
মুহূর্তে শুরু হল ঝম ঝম বৃষ্টি
তার সাথে শীল পড়া একি অনাসৃষ্টি।

সকালে স্নানের পর উঠোনেতে বসিয়া
টাক মাথে তেল মাখে নিধুবাবু কষিয়া
টুপ করে কি পড়িল নিধু করে হা হা
দাঁড়কাক ডেকে কয় নিধুবাবু কা কা।

গাঁয়েতে গানের পালা সারা রাত জাগিয়া
খবর শুনেই নিধু গেলো সেথা ভাগিয়া
আমচুর মুখ করে বসে ছিল লোক সব
নিধুকে দেখেই একসাথে জোড়ে কলরব
গানের দলের ঢুলী আনিতে ভুলেছে ঢাক
ঢাকের বদলে তাই নিধুর এ ফাঁকা টাক।
নিধুর মাথার টাক, টাক নয় বিভীষণ
পদে পদে হর রোজ করে তাকে প্রহসন।

হারিয়ে খুঁজি














কালের গর্ভে হারিয়েছি যা
তা কি পাওয়া যাবে আর
বাংলার যত ঐতিহ্য কৃষ্টি অলঙ্কার।
জারি সারি পালা হারিয়েছে কোথা
কেউ তো রাখে নি খোঁজ
পুতুল নাচ আর যাত্রাপালা
এসব ও হলো নিখোঁজ।


বটের ছায়ায় কোন এককালে
রাখাল বাজাইত বাঁশি
কাজের মাঝে হুঁকা টানিত
সুঠাম দেহের চাষি।
বউ নিয়ে মিয়া যাচ্ছে মেলায়
সাথে চিড়া মুড়ি গুড়
মহিষের গাড়ি হঠ হঠ হঠ
চল চল হুড় হুড়।


এসব এখন গল্পের বইয়ে
খুঁজে পাওয়া ও যে দায়
গায়ের বধূ যায়না নাইওর
পালতোলা কোন নায়।
ধর্ম বর্ণে নাই ভেদাভেদ
সবাই সবার জন্য
সারা গাঁয়ে যারা জ্যেষ্ঠ
তারাই ছিলেন সবার গণ্য।


কলসি কাঁখে বৌ ঝি'রা গাঙ্গে
আনিতে যাইত জল
কাঁদা মাখামাখি শালুক তোলা
দস্যি ছেলের দল।
আমার গাঁয়ে এমন ছবি
হারিয়ে গেলো কই
নবান্নে আর হয়না ঘরে
বিন্নি ধানের খই।


মেঠো বাউলেরাদরাজ গলায়
গাইত যখন গান
এক তারাটার মাটির সুরে
দুলতো সবার প্রাণ।
হারিয়ে খুঁজি বাংলা মায়ের
হারিয়ে যাওয়া সব
পাখপাখালি করুক আবার
মধুর কলরব।