ব্যাঙের ছাতা


কোলা ব্যাঙের সর্দ্দি বেজায় দিচ্ছে কেবল হ্যচ্চু
ট্যংরা পুঁটি বিরক্ত সব হচ্ছেনা ঘুম কিচ্ছু।
কোলা যখন চোখ মুদিয়া উঠলো আজই ভোরে
দেখল ভিজে চুপচুপে সে ছত্রি নিলো চোরে।

কচু পাতা মাথায় নিয়ে হাজির হল থানে
চুরির কথা বলল সেথায় শেয়াল ওসির কানে।
ঘুরিয়ে ছড়ি কাঁপিয়ে ভুঁড়ি দিলো ওসি ডাক
হুলো বেড়াল ধেড়ে ইঁদুর তদন্ত তে থাক।

রেপর্ট লিখে ফেরার পথে জোরসে দিলো হাঁটা
কাদা পথে পিছল খেয়ে ভাঙল সাধের পা টা।
সামলে নিয়ে খুঁড়িয়ে গেলো কবিরাজের বাড়ি
ঘণ্টা ধরে সাপ কবিরাজ টিপল ব্যাঙের নাড়ি।

কবিরাজের ধরণ ধারণ, চমকে ব্যাঙের পিলে
নাড়ি দেখার উছিলাতে ফেললো বুঝি গিলে
ছাড়া পেয়ে দাওয়াই নিয়ে ফিরছে যখন ঘরে
কলার খোসায় পিছল খেয়ে গেলই বুঝি মরে।

আছাড় খেয়ে কোলা ব্যাঙের চশমা ভেঙে গুড়া
লেংড়া ছিল সাথে এবার কানাও হল পুরা।
নাস্তানাবুদ ব্যাঙকে দেখে জাগল গজের মায়া
আতশ কাঁচের চশমা দিয়ে শুধায়, কেমন ভায়া!

আতশ কাঁচের চশমা চোখে ফিরল কোলা বাড়ি
দেখল দোরে দাঁড়িয়ে নানী অপেক্ষাতে তারই
ঘ্যাঙর ঘ্যাঙর সুরে বিলাপ করলো শুরু টানা
বলল; নানী আমিও এখন তোমার মতই কানা।

লাঠি নিয়ে তেড়ে নানী জোরসে বলে ঘ্যাঙ-
নইকো নানী, ব্যাঙি আমি ওরে কোলা ব্যাঙ
আতশ কাঁচের চশমাতে সব দেখছিল সে ভোঁটকা
শুকনা ব্যাঙি লাগছিলো তায় নানীর মতই মোটকা।

ছাতার খোঁজে গিয়ে কোলার এই হয়েছে গতি
ঠ্যং হারিয়ে কানা কোলার ভ্রম হয়েছে মতি
শাসিয়ে ব্যাঙি ধড়াম করে লাগিয়ে ঘরের দোর
গড়িয়ে কাদায় কোলা ব্যাঙের রাতটা হবে ভোর।

No comments:

Post a Comment